Ginolive

ginolive

অ্যাই শুনছ। কাল তোমার ছেলের ফ্রেঞ্চ পরীক্ষা, স্ত্রী কড়া গলায় ডেকে নেপোলিয়নকে বললেন।
কিচ্ছু পারে না। সারা বছর রাজ্য জয় করে বেড়িয়েছ, এখন একটু ছেলেটাকে দেখ।
নেপোলিয়নের দ্বিতীয় স্ত্রী মেরি লুই অস্ট্রিয়ার মেয়ে। জর্মন ভাষা জানে, ফ্রেঞ্চ পারে না।
ছেলের পরীক্ষা, ফ্রেঞ্চ পড়িয়ে পাশ করানোর দায়িত্ব পেলেন বাবা।
নাপলু, অ্যাই নাপলু – কোথায় গেলি বাবা। 
দ্বিতীয় নেপোলিয়ন বই-খাতা নিয়ে আসল বাবার কাছে।
দুটো শব্দ পড়ার পরে বলল, প্যার, মানে আব্বাজান, পানি খাব। নেপোলিয়ন চাকরটাকে ডাকার আগেই নাপলু হাওয়া।
নাপলু, নাপলু। ডেকেই চলেছেন নেপোলিয়ন, পানি খেতে এতক্ষণ লাগে?
কানের কাছে প্যান প্যান করতে থাকা দশটা মশা মারার পরে নেপোলিয়ন ছেলেকে খুঁজতে বের হলেন। ঘাড় ধরে পড়ানো শুরু করলেন।
ফ্যার, বাথরুমে যাব।
দাঁড়া তোর বাথরুমে যাওয়াচ্ছি। এই পৃষ্ঠা লেখা শেষ কর।
দুটো শব্দ লিখেই নাপলু বলল, প্যান্টে হয়ে গেল। বলেই দৌড়।
নাপলু, নাপলু। পাক্কা আধাঘণ্টার ধাক্কা। সারা ফ্রান্সের সবার বাথরুম কী ছেলে একাই করে দিচ্ছে নাকি?
আবার টেবলে ফেরত এল নাপলু।
তারপর সেদিন সারাবিকেল আর সন্ধা চলল বাবা-ছেলের ইঁদুর-বেড়াল দৌড়।
নাপলু বেশ কয়েকবার অশিক্ষিত থাকবে এই মর্মে চুক্তি সম্পাদন করতে চাইলেও মা মেরি সাফ জানিয়ে দিলেন, সারা বছর আমি পড়িয়েছি। আমার সন্তান মূর্খ থাকবে এটা সহ্য করা যাবে না।
সম্রাট হয়েও নেপোলিয়ন নিস্তার পেলেন না।
শেষে রাত বারোটায় নাপলু বিদ্রোহ ঘোষণা করে কম্বলের তলায় গিয়ে ঢুকল। রাণী মেরি স্বামীকে বললেন, থাক, আজ আর লেখানো লাগবে না। তুমি কম্বলের তলায় গিয়ে এই ওয়ার্ড মিনিংগুলো মুখে মুখে পড়িয়ে দাও।
নেপোলিয়নের গলা দিয়ে স্বর বেরুচ্ছিল না। তিনি তার শৈশবে ফিরে গেলেন। নাহ, মাকে মিস করছেন তিনি। কী অত্যাচার করেছিলেন মায়ের ওপরে সব মনে পড়ছে। তাকে পড়াতে বসলে চিৎকার করতে করতে মা গলা ভাংতেন কীভাবে আজ বুঝলেন নেপোলিয়ন।
পরের দিন ঘোড়াতে করে বাচ্চাকে স্কুল গেটে নামিয়ে নেপোলিয়ন গেলেন রাজদরবারে। প্রধানমন্ত্রীকে ডেকে বললেন, আমি আজ একটা ঘোষণা দেব।
প্রধানমন্ত্রী হাঁ করে তাকিয়ে আছে।
– আমি আজ একটা ঘোষণা দেব।
প্রধানমন্ত্রী হাঁ মুখটা বন্ধ করে তাকিয়ে থাকল।
নেপোলিয়ন বুঝলেন, গলায় স্বর নেই।
রাজবদ্যি এসে পথ্য দিল, আদার গুড়োর সাথে জলপাইয়ের গুড়ো মিশিয়ে গরম পানিয়ে দুমিনিট সিদ্ধ করে খান।
নেপোলিয়ন খেলেন।
গলায় স্বর ফিরে এলো।
নেপোলিয়ন বললেন, “তোমাদের দোহাই লাগে, তোমরা আমাকে শিক্ষিত মা দাও। তোমরা তোমাদের মেয়েদের লেখা-পড়া শেখাও। নাহলে এই জাতিকে শিক্ষিত করার কোনো রাস্তা আমার জানা নাই।”
—————————–

বিদ্রঃ আমরা যখন নীচ তলা থেকে শুনতে পাই বাচ্চার মায়েরা চিৎকার করছেন সেটা শখে নয়, প্রয়োজনে।
হে বাবারা, বাচ্চার মায়ের যত্ন নিন। বাচ্চার মায়ের কন্ঠের যত্ন নিন।
তাকে সরোবরের জিনোলিভ পাউডার দিয়ে গরম পানীয় বানিয়ে খাওয়ান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *