সামনা – বিশুদ্ধ ঘি

samna

সাথী ঠিক বুঝতে পারছে না মুরগীগুলোকে পারফেক্ট ভাবে চার টুকরো করবে কীভাবে। রানের অংশ ভালোভাবেই দুইভাগ করা গেছে। সমস্যা করছে বুকের অংশ। এই জায়গাটায় কোন খাঁজ নেই, আর মারাত্মক শক্ত।

আজ এ বাড়িতে ওর তৃতীয় দিন। বিয়ের আগে টুকটাক রান্না করলেও মুরগী কাটেনি আগে কখনওই। এ বাড়ির রেওয়াজ হচ্ছে বিয়ের তৃতীয় দিন নতুন বউ রান্না করে সবাইকে খাওয়াবে। সেদিন তাকে কেউ সাহায্য করতে পারবে না।

ব্যাপারটা রসিকতা দিয়ে শুরু হলেও সাথী এই মূহুর্তে আতংকিত বোধ করছে। মোটামুটি রান্না সে জানে কিন্তু আজ হতে এক্সট্রা অর্ডিনারি কিছু একটা হতেই হবে। এই চ্যালেঞ্জ আরিফই ওকে দিয়েছে। সবার সামনে হাসতে হাসতেই বলেছে আজ রান্নার মার্কিং করা হবে। ওর শ্বশুর-শাশুড়িও মুখ টিপে হাসছিলেন।

আইটেম বেশি কিছু না পোলাউ, রোষ্ট আর গরুর মাংস। মুরগী যথেষ্ট যুদ্ধ করে কাটা শেষ করে একটা একটা করে ধুয়ে ফেলেছে ও। লোম রয়ে গেছে কি না আল্লাহ্‌ই জানেন। ওর বাঁ হাতটা খানিক কাঁপছে। মা বলেছে মুরগী আগে তেলে সোনালি করে ভেজে নিতে, নাহলে রোষ্ট ভেঙে যায়। সাথী মুরগী ভেজে রান্নার শেষ পর্যায়ে খানিকটা মাওয়া আর মালাইও দিয়ে দিয়েছে। কিন্তু বিয়ে বাড়ির রোষ্টের মতো গন্ধটা আসছে না।

গরুর মাংস রান্না শেষ। পোলাও দমে দিয়ে রেখেছে ও। মা কে সব সময় দেখেছে তাওয়ার উপর পাতিল রেখে দমে দিতে। এতে নাকি পুড়ে যাবার ভয় থাকে না। ও সেটাই করেছে। রান্না সাধারণ মানের হয়েছে। কিঞ্চিৎ বিষন্ন লাগছে সাথীর।

একটা বেজে পঁয়তাল্লিশ। আরিফ রান্না ঘরে উঁকি দিলো। তার মুখ ভর্তি হাসি।

-কি ম্যাডাম! রান্না শেষ? চেহারা তো হয়েছে দেখার মত। হাল চাষের শ্রমিকদের দেখতেও এর চেয়ে কিঞ্চিৎ ভালো দেখায়।
– হু। আপনাকে প্রিন্সের মত লাগলেই চলবে। খানিকটা মুখ বাঁকাল সাথী।
আরিফ কাঁচের একটা জার শপিং ব্যাগ থেকে বের করে চুলার পাশে রাখলো।
-এটা কি? বলতে বলতে হাতে জারটা হাতে নিলো সাথী।
-সামনা আবার কি জাতীয় নাম। দেখে তো লাগছে ঘী এর মত।
– হুঁ সরোবরের ঘি। ঘি এর অ্যারাবিক নাম সামনা। তুমি হাবিজাবি যা রান্না করেছো তার জন্য কষ্ট করে সরোবরেই যাওয়া লাগলো। ওদের সব কিছুই ভালো শুধু অফিসটা বহুদূর, তেপান্তর। যেতে-আসতে জান বেরিয়ে যায়।
বোতলের মুখ খুলে ঘিয়ের গন্ধ নিতে নিতে সাথী বললো– বাহ্, সুন্দর গন্ধ ত।

গরম রোস্ট আর পোলাওতে ঘি ছড়িয়ে দিতেই বিয়ে বাড়ির রান্নার মত ম ম গন্ধ ছড়িয়ে পড়লো চারদিকে।

সাথীর শ্বশুর হাসান সাহেব একটা রোস্ট সাবাড় করে আরেকটার দিকে হাত বাড়ালেন, তার চোখের কোণ দিয়ে সতর্ক দৃষ্টি স্ত্রীর দিকে।

সাথীর মুখে ক্ষীন হাসির রেখা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *