সরোবরের মাংসের মশলার কামাল

সরোবরের মাংসের মশলার কামাল

নতুন বাসায় আসার পর থেকেই রান্না নিয়ে তমার বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে। আজ এটা পুড়ে ছাই তো কাল সেটায় মাছের গন্ধ। শাশুড়ি মার হাতের রান্না শুধু সজীব না এখন তমাও খুব মিস করছে। এতোদিন যতই বিরক্ত হচ্ছিলো এখন যেন তার সুদে আসলে মিস করছে তমা।

সজীবের পোস্টিং দূরে না হলে একা থাকার কথা তমা কল্পনাও করতো না।

কিন্তু হায় কপাল…

এর মধ্যে সজীবের নতুন কলিগরাও বায়না করেছে বাসায় খেতে আসবে। নিজে পেট পুরে খেতে পারছে না এর মধ্যে আবার এতো ঝামেলা। শিফটিং, নতুন জায়গা, কত কিছু কেনাকাটা… সব মিলিয়ে পকেটের অবস্থাও ভালো না যে এতগুলো মানুষকে বাইরে থেকে এনে খাওয়ানো যাবে।

সকাল থেকেই তমা একে একে সব গোছগাছ করছে এবং মা, শাশুড়ি দুজনের কাছ থেকেই বিভিন্ন রেসিপি নিয়ে নিচ্ছে।

কিন্তু ঝামেলা বাঁধল মশলা বাটা নিয়ে…

বাঁটাবাঁটির ধারে কাছেও কখনো যায়নি তমা। এখন নাকি মাংসের মশলা বাঁটতে বসতে হবে।
তমার চেহারার অবস্থা থেকে সজীব পাটা পুতা আর মশলা নিয়ে বসে পড়লো।
আর সজীবের এমন নাজেহাল অবস্থা দেখে তমা সব বিরক্তি ভুলে হেসে দিলো।

নতুন ভাড়াটের বাসায় এমন খুটখাট শব্দ শুনে পাশের বাসার ভদ্রলোক এসে সজীবের সাথে পরিচিত হয়ে নিলো। ঘটনার আদ্যোপান্ত জেনে তিনি খুব অসাধারণ একটা বুদ্ধি দিয়ে গেলেন।

দুপুরের খাবার সাবাড় করে সজীবের কলিগরা সবাই আঙ্গুল চাটতে চাটতে বের হলো। তমা ময়লা প্লেটগুলো ধুতে চলে গেলো। সজীব ফুরফুরে মেজাজে বউয়ের পাশে দাঁড়িয়ে বললো, “দেখলে, লাস্ট মোমেন্টে আমার কামাল… আজকে আমি না থাকলে তো তুমি…”

তমা ঠোঁটের কোনে দুষ্টু হাসি লুকিয়ে গম্ভীর মুখে বললো, “হুম দেখলাম… সরোবরের মাংসের মশলার কামাল… নাও প্লেটগুলো স্ট্যান্ডে রেখে দাও, এখন…”

সজীবের ফুরফুরে মেজাজ যেন ফুস করে ফুটো হওয়া বেলুনের মত উড়ে গেল…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *