তেলের স্মোক পয়েন্ট

কদিন আগে ভাইরাল হওয়া একটা ভিডিওতে দেখা গেল একজন বিজ্ঞানমনষ্ক মানুষ একটি সরিষার তেলের বোতল থেকে কিছু তেল নিয়ে একটি চামচে করে চুলায় জ্বাল দিচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর সরিষার তেলের গাঢ় রং চলে গেলে তিনি প্রমাণ করে দিলেন এই তেল ভুয়া।

ওই তেল খাঁটি কী ভুয়া সেটা আমরা না জানলেও পদ্ধতিটা যে ভুয়া তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

শুধু সরিষার তেল নয় – যে কোনো তেল স্মোক পয়েন্ট বলে একটা তাপমাত্রায় গেলে পুড়তে থাকে এবং ধোঁয়া ছাড়তে থাকে।
স্মোক পয়েন্টে পৌঁছালে তেলের গুণ এবং রং পরিবর্তিত হয়ে যায়।

একেকটা তেলের স্মোক পয়েন্ট একেকটা তাপমাত্রা।

যেমন, এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ ওয়েলের ১৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, কিন্তু সরিষার তেলের স্মোক পয়েন্ট ২৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবার, সয়াবিন তেলের ২৩২ ডিগ্রি।

আমরা সরোবরে বিভিন্ন তেলের স্মোক পয়েন্ট নিয়ে একটা পরীক্ষা করেছিলাম।

স্মোক পয়েন্টে পৌঁছালে বাজারের তেল, সরোবরের খারদাল কিংবা গরুর ঘানিতে ভাঙানো সরিষার তেল সবগুলোরই রং পরিবর্তিত হয়।

তাই যদি চুলায় ভুলে বেশি উত্তপ্ত হওয়ার পরে যদি দেখেন তেলের রং বদলে গেছে তাহলে সেই তেল ভালো না – এমন সিদ্ধান্ত বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক না।

বিদ্রঃ এই শীতে গায়ে মাখার জন্য প্রাকৃতিক সরিষার তেল বাজারের অনেক লোশন বা ক্রীমের চেয়ে বেশি উপকারী।

বিবিদ্রঃ উচ্চ স্মোক পয়েন্টের কল্যাণে ডিপ ফ্রাই বা কড়া রান্নার ক্ষেত্রে প্রসেসড সয়াবিন/পাম তেলের চেয়ে সরিষার তেল বেশি পুষ্টিকর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *