জিনোলিভ

zinolive

সৈয়দ সাহেব আর চৌধুরি সাহেব অনেক পুরোনো বন্ধু। স্কুলজীবন থেকে।
সৈয়দ সাহেব এখন দূর পরবাসে থাকেন। চৌধুরি সাহেব বাংলাদেশে।
অনেকদিন পরে বাংলাদেশে এলেন সৈয়দ সাহেব।
আসার ধাক্কাটা সামলিয়ে বেড়াতে এলেন বন্ধুর বাড়ি।
চৌধুরি সাহেব ভেবেই পাচ্ছেন না বন্ধুকে এমন কী খেতে দেওয়া যায় যা উন্নত পশ্চিমে নেই। 
পোলাও-কোর্মা কিংবা কাচ্চি বিরিয়ানির নাম সৈয়দ সাহেব শুনতেই চাচ্ছেন না। দেশে আসার পরে এগুলো খেতে খেতে এখন ভয় ধরে গেছে।
বন্ধুর গলা ভেঙে গেছে আবহাওয়া পরিবর্তনে। চৌধুরি সাহেব সরোবর থেকে কেনা এক কাপ জিনোলিভ বানিয়ে দিলেন নিজ হাতে।
সৈয়স সাহেবের খুনসুটির অভ্যাস যায়নি।
নানারকম তীর্যক মন্তব্যের পরে এক চুমুক দিলেন।
আস্তে আস্তে আরো কয়েক চুমুক।
শেষ হওয়ার পরে বললেন, আরেক কাপ দিও তো।

সৈয়দ সাহেব ফিরে যাবার আগে চৌধুরি সাহেব তার বাসায় গিয়ে একটা জিনোলিভের বোতল দিয়ে আসলেন।
উপহার।
কয়েকদিন পরের কথা।
মেইলবক্স খুলে চৌধুরি সাহেব চমৎকৃত।
সৈয়দ সাহেব খুব তারিয়ে তারিয়ে জিনোলিভ খাচ্ছেন। ধন্যবাদ দিয়েছেন বন্ধুকে। জানতে চেয়েছেন, সাত সমুদ্র তের নদীর ওপারে কি জিনোলিভ পৌঁছানো সম্ভব।
চৌধুরি সাহেবের মুখে স্মিত হাসি। তিনি বললেন, চেষ্টা করব।

আমাদের বয়স বেড়ে যাক, কিন্তু শৈশবের বন্ধুত্বগুলো যেন হারিয়ে না যায়।
উপহার দিন।
মাত্র ৯০ টাকা দামের ছোট্ট একটা জিনোলিভের বোতল হলেও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *