গুঁড়ো দুধ – ভিটা লাক

গুঁড়ো দুধ - ভিটা লাক

মাঝেমাঝে ভাবি ব্রিটিশ শাসকরা যে এই উপমহাদেশ লুটপাট করে সব দামী জিনিসপত্র নিয়ে গেল! বিনিময়ে কী দিল? তখন মনে হয় আর কিছু দিক বা না দিক! চা পান করার শিক্ষাটা দিয়েছে ভালোই! তাই তো আমাদের রসনা বিলাসে চা একটি আবশ্যকীয় পানীয় হয়ে উঠেছে। আর চায়ের দোকানগুলো কখনো খালি পড়ে রয় না! চায়ের কাপে ঝড় তুলে কথা হয় কত বিষয়ের! সমাজ, দেশ, সরকার, আন্তর্জাতিক খবর বাদ যায় না কোনো কিছুই। চুমুকের সাথে সাথে সমান তালে চলে আলোচনা! বড় বড় বিপ্লব আর দেশ বদলে দেয়ার মুভমেন্টগুলোও নাকি শুরু হয়েছিলো এই চায়ের আড্ডা থেকেই! যদিও জানি না এর সত্যতা কতটুকু!

যাই হোক, ভারত উপমহাদেশের মানুষ চা পান করা শেখার পর থেকে থেমে থাকেনি চা নিয়ে গবেষণা। এই এক চায়েরই যে কতরকমের রেসিপি রয়েছে! রয়েছে বানানোর কত কায়দা-কানুন! এই যেমন ধরুন – তান্দুরি চা, মসলা চা, আদা চা, দুধ চা, লেবু চা, গুড়ের চা, মরিচ চা, তেঁতুল চা … আরো কত কী! গোলাপি রঙের কাশ্মীরি চা আর ইরানি চাও বেশ সমাদৃত জগত জুড়ে। এখানেই থামাই রকমারি চায়ের কথা। চলুন আজকে কথা বলি দুধ চা নিয়ে। জানিয়ে রাখি সরোবরের গুঁড়ো দুধ (ভিটা লাক) দিয়ে বানানো চা’টা বেশ ভালোই হয়।

আমরা বেশিরভাগ সময়েই দুধ চা বানিয়ে থাকি পরিমাণ মত পানি, চিনি, দুধ আর চা-পাতা দিয়ে। হয়ত অনেকেই জানি বা জানিনা দুধ চাতেও কিছু মসলা যোগ করে অন্যরকম স্বাদ আনা যায়। তেমনই এক চায়ের রেসিপির কথা জেনে নেই চলুন।

উপকরণঃ
পানি- ৩ কাপ (দুই কাপ চায়ের জন্য),
গুঁড়ো দুধ- পরিমাণ মত,
চিনি- পরিমাণ মত,
থেঁতো করা এলাচ- ২-৩ টি,
জানজাবিল (আদা) গুঁড়ো- ১/৪ চা চামচ
কুরকুম (হলুদ) গুঁড়ো- ১/৪ চা চামচ
চা-পাতা- পরিমাণ মত

প্রণালীঃ
একটি হাঁড়িতে পানি নিয়ে মাঝারি আঁচে চুলোয় বসিয়ে দিন। ১৫-২০ সেকেন্ড পর তাতে ভিটা লাক গুঁড়ো দুধ দিয়ে নেড়ে ভালো করে গুলে নিন। এরপর একে একে থেঁতো করা এলাচ, জানজাবিল গুঁড়ো, কুরকুম গুঁড়ো দিয়ে দিন। ফুটতে শুরু করলে পরিমাণ মত চা-পাতা দিয়ে ভালো করে জ্বাল করে নিন। চা কমে দুই কাপ সমান হয়ে এলে কাপে পরিবেশন করে পছন্দ অনুযায়ী মিষ্টি যোগ করে পান করুন ভিন্ন স্বাদের এই দুধ চা।

** এই চা গরুর তরল দুধ এবং কাঁচা আদা/হলুদ এসব দিয়েও বানানো যাবে গুঁড়োর পরিবর্তে।