উপহারের ঝুড়ি

চৌধুরি সাহেব মাঝে মাঝে বেশ বিপদে পড়ে যান। তিনি এমন কিছু বিয়ের দাওয়াত পান যেখানে যেতে তার রুচি হয় না। পুরু মেক-আপ, দামী পোশাক আর স্বর্নালংকারে আবৃত মানুষেরা যেন আত্মপ্রদর্শনীর প্রতিযোগীতায় নামে।

এই আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানগুলোতে টাকা ওড়ানোর যে চল চলে, তাতে চৌধুরি সাহেবের আত্মায় কষ্ট হয়।

তবে তিনি বোঝেন তাকে যারা দাওয়াত করে তারা অনেকেই সমাজের চাপটা অগ্রাহ্য করতে পারে না; বোঝে কিন্তু মানতে পারে না। চৌধুরি সাহেব এদের নিরাশ করেন না। তিনি দাওয়াত কবুল করেন, তবে অনুষ্ঠানটা এড়িয়ে চলেন। তিনি অপেক্ষা করেন কবে নবদম্পতি থিতু হয়ে বসবে। তারপর তিনি তাদের বাসায় যান। সাধ্যমতো কিছু উপহার কিনে নিয়ে যান। সামাজিকতা রক্ষার জন্য না, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ পালনের জন্য। উপহার দিলে হৃদ্যতা বাড়ে – সেই জন্য।

উপহার কেনার সময়ও চৌধুরি সাহেব খেয়াল রাখেন এমন কিছু দিতে যা নতুন সংসারের কাজে লাগবে – হাত বদল হয়ে এক বিয়ের উপহার আরেক বিয়েতে পাচার হয়ে যাবে না।

চৌধুরি সাহেবের প্রিয় উপহার হচ্ছে বই। তবে যারা পড়ুয়া তাদের তিনি পড়া বই উপহার দেয়ার ঝুঁকি নেন না। সেক্ষেত্রে তিনি সরোবরের মশলার গিফট প্যাকটা বেছে নেন। ব্যস্ত যুগ, ব্যস্ত মানুষ। ব্যস্ত মানুষের কাজ সহজ করতে গুঁড়া মশলার জুড়ি নেই। আর কাটা মশলা যেখানে অনেক বেশি পরিমাণে লাগে সেখানে গুঁড়া মশলা অল্প একটু দিলেই কাজ হয়ে যাচ্ছে। টাকাও সাশ্রয় হচ্ছে অনেক।

মশলা শেষ হয়ে গেলেও বেতের ঝুড়িটা থেকে যাবে। সেই সুদূর পাবনার চাটমোহরের কোনো এক গ্রামে বসে বানানো এই ঝুড়িটা কিনে কোনো এক অসহায় মহিলাকে কিছুটা অভাবমুক্ত করা যাচ্ছে – এই বোধটাও চৌধুরি সাহেবকে তৃপ্তি দেয়।

আপনিও যদি চৌধুরি সাহেবের মতো বহুমাত্রিক উপকারী উপহার দিতে চান তবে সরোবরের সাইটে ঢুঁ মারতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *