উদহিয়া ১৪৩৮ হিজরি

image

সরোবর লালনের পালিত গরু ঢাকায় বিক্রির পাশাপাশি সারা দেশে সরোবর গরুর ভাগ বিক্রি করে।

বিক্রিকৃত ছাগল বা গরুর ভাগ দেশের বিভিন্ন জেলায় (লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, দিনাজপুর, রংপুর, গাইবান্ধা, নওঁগা, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, বরিশাল, খুলনা, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি) সহ আরও বিভিন্ন গ্রামে গরিব মানুষদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়া হবে ইন শা আল্লাহ।

তবে এবার মূল লক্ষ্য থাকবে বন্যাদুর্গত লোকদের মাঝে দেওয়া।

কেন আমরা ভাগে কুরবানি বিক্রি করি?

প্রথমত, কুরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদাত। কুরবানি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার একটি বিধান।

“তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় কর এবং কুরবানি কর।”

(সূরা আল কাউসার ২)

দ্বিতীয়ত, কুরবানি না করা অত্যন্ত অপছন্দনীয়। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

“সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি কুরবানী করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের নিকটবর্তী না হয়।“ [সহীহ ইবনু মাজাহ, হা/২৫৩২]

অনেক আলিম একে সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ বললেও ইমাম আবু হানীফাহ এবং ইমাম ইবনে তায়্যিমিয়াহ কুরবানি দেওয়া ওয়াজিব বলেছেন।

তৃতীয়ত, এমন অনেক মানুষ আছে যারা কিনা ঈদের দিনেও গরুর মাংস খেতে পারছে না দামের আধিক্যের কারণে। আমরা তো চাই এমন মানুষদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে।

চতুর্থত, শহুরে পেশাদার মাংস-ভিক্ষুকদের নিরুৎসাহিত করা। কুরবানির মাংস বাণিজ্যের একটা বড় দায় আমাদের। আমরা আমাদের প্রতিবেশীদের কতটুকু খোঁজ নিই? কে কে কুরবানি করতে পারেনি সেটা দেখা আমাদের দায়িত্ব।

রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

“যে ব্যাক্তি সম্পদ বাড়ানোর জন্য লোকের কাছে মাল ভিক্ষা করে, সে যেন আগুনের অঙ্গার ভিক্ষা করল। চাইলে সে তা কম করুক বা বেশী করুক।” [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ) ২২৭০]

পেশাদার ভিক্ষুকদের না দিয়ে প্রকৃত অভাবীদের খুঁজে বের করে দেওয়া আমাদের কর্তব্য।

পঞ্চমত, যারা সশরীরে কুরবানি করতে পারছেন না তারা যেন অন্তত আর্থিক সামর্থ্যের হক আদায় করতে পারেন—সেটা আমাদের কাম্য।

ষষ্ঠত, মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে। এই দেশে অনেক মানুষ আছে যাদের ঈদটা আসলে খুশি বয়ে আনবে না। নিজেদের গরিবী এবং একটা দিন পরিবারকে ভালো খাওয়ানোর ব্যর্থতা দীর্ঘনিঃশ্বাস আর অশ্রু বয়ে আনবে। আমরা ব্যবসা করে ভালো খাব, ভালো পরব–তাদের জন্য কিছু করব না?

আমরা আলাদিনের চেরাগে বিশ্বাস করি না। আমরা পৃথিবীর সব মানুষের দুঃখ কষ্ট দূর করে ফেলব এমন মিথ্যা কল্পনাও করি না।

আমাদের আশা খুব অল্প। এই ঈদুল আদহাতে আনুমানিক ৮,৮০০ পরিবারের হাতে আধ কেজি মাংসের একটা পলিপ্যাক তুলে দেওয়া। তাদের বলা,

“এটা আল্লাহ আপনার জন্য পাঠিয়েছেন। নুন-হলুদ-তেল দিয়ে সেদ্ধ করে বাসার সবার সাথে খেয়েন।”

এবারে প্রতিটি গরুর ভাগের দাম পড়বে ৭,০০০ (সাত হাজার) টাকা এবং প্রতিটি ছাগল/খাশির দাম পড়বে ৮,০০০ (আট হাজার) টাকা।

জরুরি প্রয়োজনে ফোন-ও করতে পারেন ০১৮৬ ১০০ ৫৫ ৫৫ বা ০১৭৫০ ১৮০০ ৪৪- নাম্বারগুলোতে। সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৫ টা, সলাতের সময়ে ছাড়া বাকি সময়ে এ ফোন ধরার চেষ্টা করব আমরা ইন শা আল্লাহ। স্টক থাকা সাপেক্ষে আমরা ২৯শে অগাস্ট, ২০১৭ পর্যন্ত বিক্রি করব ইন শা আল্লাহ।

১। কেনার সিদ্ধান্ত নিলে রেজিস্ট্রেশন করুন: https://goo.gl/jRDBsA

২। ব্যাংকে টাকা পাঠালে তার কোনো একটা প্রমাণshorobor.org@gmail.com এ মেইল করে দিন।

৩। ০১৮৬ ১০০ ৫৫৫৫ এ মার্চেন্ট নম্বরে পারসোনাল বিকাশ থেকে টাকা পেমেন্ট অপশন থেকে পে করতে পারেন। বিকাশ করলে আপনার রেজিস্ট্রেশনের নামটা ওই নম্বরে মেসেজ করে জানিয়ে দিন দয়া করে।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা যেন আমাদের হালাল উপার্জন থেকে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য উদিয়া করার তাওফিক দেন এবং তা কবুলও করে নেন। আমীন।