আলু ভাজা, দুইটা শুকনা মরিচ আর গরম ভাতের উপর দুই চামচ “সামনা”

samna

তিথীদের এই বাড়িটা বেশ পুরাতন। ওর দাদাজান পাকিস্তান আমলে কার থেকে যেনো পানির দামে কিনে ফেলেছিলেন। একান্নবর্তী পরিবারে ওর দাদাভাই ই সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ। দাদাভাই গত কয়েকদিনের জ্বরে একেবারে দুর্বল হয়ে গেছেন তেমন কিছুই খেতে পারছেন না। তিথীর মা রোকেয়া অনেক কিছুই রান্না করে দিচ্ছেন উনার সামনে। কিন্তু খেতেই পারছেন না।

তিথীর হঠাত মনে হলো দাদীজান একবার বলেছিলেন, “তোর দাদাজানের ঘি তে ভাজা চিকন করে কাটা আলু ভাজা, দুইটা শুকনা মরিচ আর গরম ভাতের উপর দুই চামচ ঘি হলে দুনিয়ার আর কিছু লাগে না। দুই গামলা ভাত খেয়ে ফেলতে পারে। এখন আর খাঁটি ঘি পাওয়াও যায় না তাই বেচারাকে এই সামান্য জিনিসও দিতে পারি না। কি যে দিনকাল আসলো। তোর দাদাজান গন্ধে ঘি চিনে ফেলে।”
দাদীজান মারা গেছেন পাঁচ বছর প্রায়। তিথীর হঠাত মনে হলো ওর বান্ধবী বাবা চৌধুরী সাহেবের “সরোবর” এ সামনা নামে খাঁটি ঘি পাওয়া যায়।

।।
রমিজউদ্দিনের সামনে গরম ভাত। ভাত থেকে ধোয়া উড়ছে। পাশেই ঘি এ চিকন কাটা আলুর কড়কড়ে ভাজা। শুকনো মরিচ দুটোও ঘি তে ভাজা হয়েছে। গন্ধ পুরো রুম জুরে ছড়িয়ে পড়েছে। উনার ভাতের উপর দুই চামচ সামনা ঘি ঢেলে দেয়া হয়েছে।
বহুদিন পর উনি এত আরাম করে ভাত খেলেন। তিথীর মুখের হাসি একান ওকান ছড়িয়েছে। রোকেয়ারও।
তিথীর বাবাও আলুভাজার দিকে লোভাতুর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *