যায়তুন | এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ ওয়েল

যায়তুন..........এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ ওয়েল

বড় আপা এসেই সোজা লিজার কাছে চলে গেলেন। আম্মার মন খারাপ। কিছুটা বিরক্তও। ছেলের বউকে এই শেষ সময়ে যেতে দিতে তার একদম মন টানছে না। মায়ের এ অবস্থা দেখেও আগে লিজার কাছেই গেলেন বড়আপা। মাকে পরে বোঝানো যাবে।

–কিরে লিজু গোছানো শেষ? কই দেখি বাবুর ব্যাগ, দেখি কি কি নিয়েছিস।

– আপাআআ আপনি এতক্ষণে আসলেন। সব এলোমেলো লাগছে। আপনি থাকলে খুব নিশ্চিন্ত লাগে । ওই যে ওদিকে ব্যাগের পাশে সব সাজানো, সব ঠিক আছে কিনা দেখেন তো আপা।

— কি যে বলিস! চট করেই তো চলে এলাম। হুমম, কাঁথা, নিমা, কাপড়, কটন বাড, ডেটল, ডায়াপার, শ্যাম্পু, পাউডার…। সবই ঠিক আছে। কিন্তু তেলটাই তো নিস নি!

– এই গরমে তেল! আপনি যে কী বলেন আপা! তেল দিয়ে কী হবে?

— এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ ওয়েল রে পাগলি। এটা মাস্ট। শীত বা গরমকাল যাই হোক না কেন অলিভ তেল লাগবেই লাগবে। বাবুুর স্কীন কেয়ার বলে কথা।

– আচ্ছা! বলেন আপনি, বিস্তারিত বলেনতো আপা। গোছানোর কাজ ফেলে দুইগালে হাত দিয়ে মনোযোগ দিয়ে শুনতে চেয়ারে বসে গেলো সে।

— ঢং করিস না তো। গোসলের আগে ও পরে বাবুর গায়ে তেল মালিশ করে দিবি। স্কীন তুলতুলে থাকবে।আর সবচেয়ে ভোগাবে তোকে ডায়াপার র্্যাশ। এই জিনিস একদম হবে না যদি তুই ডায়াপার বদলানোর সময় বাবুকে পরিষ্কার করে সুন্দর করে অলিভ ওয়েল লাগিয়ে নিস।

মা চলে এলেন ঠিক এই সময়ে। গম্ভীর হয়ে বললেন

-” আমাদের নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই তেলকে বরকতময় গাছের তেল বলেছেন।
চুলের পুষ্টিগুণ বাড়াতেও এই তেল বেশ কাজে দেয়।

–মা, তুমি যে বড় হয়েও আমাদের ঘুমের আগে মালিশ করে দিতে। সেটা বললে না যে! মায়ের গম্ভীরভাব কাটাতে বড় আপা দুষ্টুমি করে বলেন। মা কিন্তু সিরিয়াসভাবেই বলতে থাকেন,

-” এই তেল বাচ্চাদের দুই পায়ে নরম হাতে মালিশ করে দিলে বাচ্চা আরাম পায়, সহজেই ঘুমে ঢুলে পড়ে। ঘুমটাও আরামের হয়। কত গুণ এই তেলে! ”

এবার বড়আপা বলতে থাকলেন,

— শোন লিজু, বাবু মাথায় ছাতার মত খুশকি হয়, একে Cradle cap বলে । এটা বাবুর জন্য তেমন অস্বস্তিকর নয় কিন্তু দেখতে ভীষণ বাজে লাগে। গোসলের ১৫-২০ মিনিট আগে বাবুর মাথায় অলিভ তেল লাগিয়ে দিবি। এরপর অল্প শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ধুয়ে দিবি। পরে চিরুনি করলে দেখবি ময়লাগুলো উঠে আসছে। পরপর কয়দিন লাগালেই মাথা ফকফকা।

– এ তো দেখি এলাহি কান্ড! এতদিনে এই যাবার সময় এসে এসব বলছেন।

— এলাহি কান্ডই বলতে পারিস। অলিভ ওয়েলে ভিটামিন এ,বি, সি, ডি, ই, কে সব থাকে, কোনটা নেই বল? অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ চমৎকার একটা তেল।

এতক্ষণে বড় আপা একটা বড় সাইজের ঝুড়ি দিলেন লিজাকে। যায়তুনের ২ টা বড় বোতল উঁকি দিচ্ছে সেখানে।

–বাবুর জন্য দরকারি সব জিনিস আছে এতে। এটা তোর বিদায় গিফট। হা হা। “যায়তুন” তেলও দিয়ে দিয়েছি ২ বোতল। তোর দুশ্চিন্তার কিছু নেই, এটা একদম খাঁটি। সরোবরের এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ ওয়েল।

–শোনো মা, আমার বাবু হবার সময় যেমন তুমি আমাকে কাছে না এনে শান্তি পাচ্ছিলে না তেমনি লিজার মারও তো ইচ্ছে করে। তাইনা? আর আজকাল সবকিছুই খুব সহজ। সহজভাবে ভাবলেই হয় শুধু। তুমিও গিয়ে থাকো না। দুই বেয়ান মিলে গপসপ করবে আর নাতির যত্ন নিবে। এরপর একদিন সুযোগ বুঝে ছেলের বউ আর নাতিকে নিয়ে চলে আসবে। তোমার বেয়ানকেও ছাড়বে না, সাথে নিয়ে আসবে । হা হা।

মায়ের মুখে এতক্ষণে একটু হালকা খুশির রেখা দেখা গেল।

-” খুব ভাল বলেছিস মিলি! আমিও কাপড় গুছিয়ে নিই কী বলিস? না, তুই যা আমার ব্যাগটা গুছিয়ে দে তো মা। আমি বরং তোর দেয়া ঝুড়িটাতে কী কী আছে সেটা দেখি। বউমা, তুই কেন আগে এই বুদ্ধি বের করলি না? ”

গোপন কথা ১ : বুদ্ধিটা কিন্তু লিজারই দেয়া। বড়আপাকে বলতেই কাজ হয়ে গেলো!

গোপন কথা ২: বড়আপা ছাড়া কোন কাজই হয় না। এই যেমন যায়তুন নিয়ে চলে এসেছেন। এত দরকারি জিনিসটা বেমালুম বাদ দিয়ে বসে ছিল লিজা!