ধু-ধু বালুচর

imag2758
ধু-ধু বালুচর! এবড়োখেবড়ো রাস্তা আর একো-অকোন ভাঙ্গা পথটাতে যানবাহন চলার ‘জো নেই। স্থানীয় সাধারণ মানুষদের ভরসা তাই একটাই— আল্লাহ প্রদত্ত পা দু-খানা। ভাগ্য ভালো থাকলে ভ্যান অথবা ঘোড়ারগাড়ি জাতীয় যানগুলোর দেখা হয়তো মিলে যেতে পারে। তবুও ভাঙ্গা ব্রীজ আর ক্ষয়ে যাওয়া রাস্তার অনেকখানি পথ পাড়ি দিতে হয় পায়ে হেঁটেই।
কাদায় পড়ে যাওয়া জন্তুরা যেভাবে গা-ঝাঁড়া দিয়ে নিজেকে সামলে নিতে চায়, আমাদের অবস্থাটা হয়েছিল অনেকটা সেরকম। ধুলো-বালির রাজ্য আর নির্মম পথ মাড়িয়ে পৌঁছে গেলাম গাইবান্ধা জেলার বেল্কা ইউনিয়নের এক স্কুল মাঠে। পোঁছাতেই চোখ পড়লো দূর-দূরান্ত থেকে আসা অপেক্ষারত মানুষগুলোর ওপর। নদী ভাঙায় সর্বস্ব হারানো কিছু মানুষ। নদীর এপাড় ভেঙে হয়তো ওপারে জোড় লেগেছে, কিন্তু জোড় লাগেনি যাদের ভাগ্য। টিকে থাকতে হয় বলেই টিকে আছেন। কারও কারও পা খালি; জুতো সেখানে বিলাসিতার নামান্তর মাত্র! আবার কারও কারও পরনে স্রেফ একটা জরাজীর্ন শাড়ি—এবারের শীতটা কোনোরকমে পার করতে পারলেই চলে। আশ্বস্ত হলাম— আলহামদুলিল্লাহ! লিস্ট ভালো হয়েছে। অন্তত অপাত্রে দান করার মতো অবস্থা হয়নি। সত্যিকার অভাবী মানুষদের কাছে পৌঁছতে পেরেছি।

অপেক্ষায় আছেন, কখন কম্বল পাবেন। টোকেন দেখতে চাওয়ায় হাসিমুখে হাত বাড়ালেন।
বেল্কা ইউনিয়নের পাড় ঘেষে ব্রহ্মপুত্রের একটি শাখা নদী বয়ে গেছে। স্থানীয় ডাকনাম— তিস্তা। বর্ষার সময় আসলেই যার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায় ঘর-বাড়ি। শীতের কুয়াশার সাথে সাথে শীত আসতেই জেগে ওঠে নতুন চর। নতুন আশা আর কিছু ভঙ্গুর জীবনের স্বপ্ন নিয়ে মানুষগুলো আবারও তাতে ঘর বাঁধে। কিন্তু নদী এলাকা বলে কথা! শহুরে শীতের সকালের আয়েশি ভাবটা এখানে নেই। ছনঘরের ফাঁকগলে হু হু করে যখন উত্তরা বাতাস ঢোকে— জীবন নামক যুদ্ধটা ঠিক কতটা নির্মম হয়ে যায় সেটা আমরা ইট-কাঠের খাঁচায় বসে অনুভব করতে পারবো না কোনোদিনই।
অভাববোধ মানুষের নৈতিকতা কেড়ে নেয়, কেড়ে নেয় ধর্মবোধ। যেখানে স্বয়ং রাসুল(সা.) এর মতো ধৈর্যশীল, শ্রেষ্ঠতম মানুষটাও দারিদ্র্যতার হাত থেকে পানাহ চাইতেন। সেখানে চরাঞ্চলের মানুষদের অবস্থা খুব একটা উত্তম ভাবার কোনো কারণ নেই। আশংকাজনক ভাবে এখানে পরিবার ভাঙ্গন বেড়ে যাচ্ছে। প্রায় পরিবারেই দেখা যায়, অভাবের কারণে যুবক ছেলেরা বাবা-মার কাছ থেকে আলাদা হয়ে নিজ সংসার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে। অনেকসময় একই বাড়িতে থাকলেও রান্না হচ্ছে পৃথকভাবে। আবার সামর্থ্য থাকার পরও খোঁজ নেয় না অনেক সন্তান।
এদের পিতামাতারা যখন তার নিজ সন্তানের বয়সী কারও হাত থেকে একটা কম্বল নিতে পারেন, দুটো আশার কথা আর আখিরাতে দরিদ্র্যতার কারণে সহজ হিসেব পাবার স্বপ্নটা দেখতে পারেন; তখন অশ্রুসজল দুচোখের যে ঝিলিক দেখা যায় তার মূল্য নির্ধারণের কোনো একক আমার জানা নেই। লাখ টাকা খরচে আমরা পাহাড়-সমুদ্র দেখতে যাই, কিন্তু মানুষের চোখের ভালোবাসায় যে পাহাড়সম সমুদ্র লুকিয়ে আছে তা খুঁজে দেখেছি কখনো?
খুঁজে দেখুন, মনে থাকবে চিরকাল!
এখনও অনেকগুলো জায়গায় আমরা কম্বল নিয়ে পৌঁছাতে পারিনি। আমাদের সাথে যোগ দিতে পারেন চাইলে এখনও — A/C name: Shorobor, A/C number: 3556 901 001127 Pubali Bank Limited, Islami Banking Window, Principal Branch, Dhaka অথবা, বিকাশ মার্চেন্ট নাম্বারঃ ০১৮৬১ ০০ ৫৫ ৫৫ যে কোন তথ্য বা অর্ডার এর জন্য যোগাযোগ করতে পারেনঃ ০১৮৬১ ০০ ৫৫ ৫৫ অথবা ০১৭৫০ ১৮ ০০ ৪৪।
আমাদের সকলের ছোট ছোট পদক্ষেপ গুলো যেন আল্লাহ কবুল করে নেন।

Total number of views: 115

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedintumblrmailFacebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedintumblrmail

2 thoughts on “ধু-ধু বালুচর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *