এক কাপ জিনোলিভ

এক কাপ জিনোলিভ

আজিকের রোদ ঘুমায়ে পড়িয়া ঘোলাট-মেঘের আড়ে,
কেয়া-বন পথে স্বপন বুনিছে ছল ছল জল-ধারে।
কাহার ঝিয়ারী কদম্ব-শাখে নিঝ্ঝুম নিরালায়,
ছোট ছোট রেণু খুলিয়া দেখিছে অস্ফুট কলিকায়!
বাদলের জলে নাহিয়া সে মেয়ে হেসে কুটি কুটি হয়,
সে হাসি তাহার অধর নিঙাড়ি লুটাইছে বনময়।
কাননের পথে লহর খেলিছে অবিরাম জল-ধারা
তারি স্রোতে আজি শুকনো পাতারা ছুটিয়াছে ঘরছাড়া!
হিজলের বন ফুলের আখরে লিখিয়া রঙিন চিঠি,
নিরালা বাদলে ভাসায়ে দিয়েছে না জানি সে কোন দিঠি!
চিঠির উপরে চিঠি ভেসে যায় জনহীন বন বাটে,
না জানি তাহারা ভিড়িবে যাইয়া কার কেয়া-বন ঘাটে!
কোন্ সে বিরল বুনো ঝাউ শাখে বুনিয়া গোলাপী শাড়ী, –
হয়ত আজিও চেয়ে আছে পথে কানন-কুমার তারি!
দিকে দিগেনে- যতদূর চাহি, পাংশু মেঘের জাল
পায়ে জড়াইয়া পথে দাঁড়ায়েছে আজিকার মহাকাল।

……

এটুকু পড়ে চৌধুরি সাহেব থমকে গেলেন। আহারে, কতদিন বর্ষার গ্রাম দেখা হয় না।

জসীমউদ্দিন এর উপাধি ছিল পল্লীকবি। কিন্তু পল্লীর অংশগুলো এখন আমাদের শহুরে জীবনের সাথে যায় না।

ঠিক যেমন যায় না, জানালার গ্রীলের সাথে বাইরের বর্ষাটা।

চৌধুরি সাহেব কবিতাটা শেষ করলেন।

আজিকে বাহিরে শুধু ক্রন্দন ছল ছল জলধারে,
বেণু-বনে বায়ু নাড়ে এলোকেশ, মন যেন চায় কারে।

মুখটা স্মিত হাসিতে ভরে গেল।
পড়ন্ত বিকেল। অফিস শেষ।
বাসাতে বোধ হয় তিনি অপেক্ষা করছেন এক কাপ জিনোলিভ নিয়ে।

আলহামদুলিল্লাহ, বিয়ে করে ফেললে বিরহমূলক রোমান্টিসিজম নিয়ে ভুগতে হয় না। স্ত্রীর কাছে চলে যাওয়া যায়।

চৌধুরী সাহেব একটা দু’আও করলেন।

মালিক, এই দুনিয়ার সব আবিয়াত্তা ভাই এবং বোনকে তাড়াতাড়ি বিয়ের ব্যবস্থা করে দেন।
তারা দুজনে জানালার ধারে দুকাপ জিনোলিভ হাতে বৃষ্টিবিলাস করতে পারে – সে সুযোগ করে দেন।