এই রমাদানে

Ramadan-Blog_slide
পৃথিবীতে পাঠানোর সময় আল্লাহ মানুষকে বিবেক দিয়েছেন, বুদ্ধি দিয়েছেন। পুঁজি হিসেবে দিয়েছেন সময়। অস্ত্র হিসেবে দিয়েছেন দেখা-শোনা-বলা-করার ক্ষমতা। মানুষের কাছে আল্লাহর কোনো পার্থিব চাওয়া নেই। থাকার কথাও নয়। যা আল্লাহ সৃষ্টি করে মানুষকে দিয়েছেন তাতে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। তিনি যখন মানুষকে দান করতে বলেন সেই সম্পদ আল্লাহর লাগে না। আর-রাহমানের কোন মূর্তি নেই যার সামনে প্রসাদ সাজিয়ে বসতে হয়। মানুষ মানুষকে দেয়। তার মতো আরেকটা মানুষ, যাকে আল্লাহ সম্পদ কম দিয়েছেন। আল্লাহ মানুষের কাছ থেকে যা নেন সেটা তাকে বহু গুণে ফিরিয়েও দেন। হয় ইহকালে নয়ত পরকালে। আমরা পরকালটা ঠিক বুঝে উঠি না। এই দুনিয়া আমরা চোখ-কান বন্ধ করে ভোগ করি। মৃত্যুই মাথায় আসে না, মৃত্যুর পরের জীবন তো দূরের কথা।
 
সাহাবাদের আখিরাতে প্রতি বিশ্বাস এমন ছিল না। এক ইয়াতীমের একটা গাছের দরকার ছিল, রসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে আবদার করলেন। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গাছের মালিককে ডেকে বললেন, গাছটা দিয়ে দাও-আমি তোমাকে জান্নাতে একটি বাড়ির ওয়াদা করছি। গাছের মালিক দিলো না। এক সাহাবা ছিলেন কাছে বসা। তাঁর ছিল নামী খেজুর বাগান—বিশাল বাগান, অনেক ফলন। বাগানের ভেতরেই তাঁর বসত। তিনি জানতে চাইলেন, ইয়া রসুলুল্লাহ আমি যদি ঐ গাছটার ব্যবস্থা করে দেই, আমাকেই কী জান্নাতে বাড়ি দেওয়া হবে। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সায় দিলেন। সাহাবা তাঁর বাগানের বিনিময়ে ঐ গাছটি কিনে নিলেন। স্ত্রী-সন্তানকে বললেন বেরিয়ে এসো, আমরা জান্নাতের বাড়ির বদলে এই বাগানটি বিক্রি করে দিয়েছি। জান্নাতটা সাহাবাদের কাছে আসলেই আসল ছিল। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে ভাড়া বাসার কথা ওঠে, ফ্ল্যাট কেনার কথা ওঠে। কথা ওঠে জমি কেনার। ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়। সেই ভবিষ্যত যার একটা দিনও গ্যারান্টি নেই। অথচ আসল ভবিষ্যত তো তাই যার শুরু আছে শেষ নেই। সেই ভবিষ্যতে ভালো থাকার জন্য কিছু তো করতে হয়। কিছু ত্যাগ করতে হয়। সামনে রমাদান আসছে। ত্যাগের সময় এই রমাদান। এই রমাদানে আমাদের একটা আবেদন আছে। ত্যাগের আবেদন। রমাদানে যদি একজন রোযাদারকে একদিন ইফতার করানো হয় তবে সেই রোযায় সাওয়াব সে পাবে। তবে যে রোযাদার— তার সাওয়াব একটুও কমবে না। আপনি কী আপনার চারপাশের গরীব মানুষদের একটা দিন ইফতার করাবেন?
 
সরোবর এই রমাদানে কী করছে বলি: আমরা দেশের কিছু অনুন্নত এলাকাগুলোতে কিছু মাদ্রাসার বাচ্চা, কিছু না-খেতে-পাওয়া মানুষকে এক মাসের ইফতারের জন্য একটা প্যাকেজ দেব। প্যাকেজে থাকছে আধ কেজি লুলু খেজুর (প্রায় ১০০ পিস থাকে আধ কেজিতে, প্রতিদিন ৩টা করে খেজুর খেতে পারবে ইফতারে), আধ কেজি গুড়ো দুধ, এক কেজি চিনি, এক কেজি চিড়া। গতবার আমরা দিয়েছিলাম খেজুর, মুড়ি আর চানাবুট। মুড়ি এক মাস থাকে না—মিইয়ে যায়। চানাবুট রান্না করা গরীব মানুষ কিংবা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের জন্য সম্ভব হয় না—ওখানে কোথাও গ্যাসের চুলা নেই; জ্বালানি খরচ পড়ে যায় অনেক। তেল-পেঁয়াজের দুর্মূল্যে অনেকেই গতবার আমাদের দেয়া চানাবুট শেষমেশ বিক্রি করে দিয়েছিল। আমরা অতীত থেকে শিক্ষা নিয়েছি। এজন্য এবার আমরা মুড়ির বদলে চিড়া দিচ্ছি—শর্করার উৎস হিসেবে; আমিষের জন্য ছোলাবুটের বদলে গুড়ো দুধ দিচ্ছি। গুড়ো দুধে দাম বেশি পড়ছে তবে আমিষের পাশাপাশি স্নেহ বা ফ্যাটের অভাব-ও পূরণ হবে। খেজুরে বেশ কিছু ভিটামিন এবং মিনারেল আছে। সব মিলিয়ে যেন একটা আদর্শ খাবার পায় মানুষ। এই কাজটা আপনিও করতে পারেন। আপনাদের দামের একটা ধারণা দিতে পারি। আধ কেজি খেজুর পড়বে ১০০-১২০ টাকা, গুড়ো দুধ ২২০-২৪০ টাকা/আধ কেজি, দেশি লাল চিনি ৬০-৬৫ টাকা/কেজি, চিড়া ৩৫-৪০ টাকা/কেজি। প্যাকিং মিলিয়ে একটা প্যাকেজের দাম পড়বে ৪৩৫-৪৫০ টাকার মধ্যে, ইন শা আল্লাহ। আপনার দেশের বাড়ির এতিমখানাটিতে, বিধবা মহিলাদের, অসুস্থ বৃদ্ধদের দিন। ইফতারে খেজুর খাবে। চিড়া পানিয়ে ভিজিয়ে চিনি আর দুধ দিয়ে খাবে। মন থেকে আপনার জন্য দু’আ করবে। যদি দু’আ নাও করে আল্লাহ আপনাকে একটা রোযার সমান সাওয়াব দেবেন। মাদরাসার যে বাচ্চাটি এখনও রোযা রাখা শেখেনি সে হয়ত আপনার ইফতার প্যাকেট পেয়ে রোযা রাখতে উদ্বুদ্ধ হবে। রমাদানে একটা বাচ্চা প্রতিদিন পুষ্টিকর খাবার খাবে—সেটাই বা কম কী? আমরা তো কত ভালো-মন্দ খাই, চা-কফি খাই, মিষ্টি খাই। অতীতে আমরা এমন অনেক জায়গায় গিয়েছি যেখানের মানুষেরা এর আগে কখনও খেজুর খায়নি। আপনিও চেষ্টা করুন এমন মানুষ খুঁজতে যার দুধ খাওয়ার সামর্থ্য নেই। হাতে খাবারের প্যাকেটটি দিয়ে জীবনের উদ্দেশ্য নিয়ে কিছু কথা বলুন। মানুষ পৃথিবীতে এসেছে যে শুধু আল্লাহর ইবাদাত করতে সেটা বলুন। শির্ক করতে নিষেধ করুন। প্রতিদিন সলাত আদায় করতে বলুন। সিয়াম থাকার উপকারীতা বলুন। জান্নাতের সুখবর দিন—গরীবদের জন্য জান্নাত কত সহজ সে হাদিসগুলো শোনান। মাদরাসার বাচ্চা হলে তাদের মন দিয়ে পড়াশোনা করতে বলুন।
 
আমরা যে ৫০০০ প্যাকেজের পরিকল্পনা করেছি তার অধিকাংশ-ই যাবে মাদরাসা এবং এতিমখানায়। একটা এতিমখানায় প্রাপ্তবয়স্ক ছাত্র যেমন আছে, তেমনি ছোট বাচ্চারাও আছে। এসব ছোট বাচ্চারা পুষ্টিকর খাবার খুব কম-ই খায়। আমরা প্যাকেটগুলো দেওয়ার সময় তাদের সিয়াম থাকার গুরুত্ব নিয়ে বলবো। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময় শিশুদের কীভাবে সিয়াম থাকার অভ্যাস করানো হতো সেটাও বলব ইন শা আল্লাহ। তবে এই শিশুগুলোর সবাই যে সিয়াম থাকবে এমনটা আশা করা ঠিক হবে না। আবার এই বাচ্চাগুলোর চোখের সামনে দিয়ে শুধু বড়দের খাবার দেব--এটাও ছোটোলোকি হয়ে যায়। তাই যারা আমাদের রমাদান খাদ্য বিতরণ অভিযানে অংশ নিচ্ছেন--তারা শুধু ইফতার খাওয়ানোর পাশাপাশি গরিব এতিম বাচ্চাদের একটা মাসের এক বেলা স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়াচ্ছেন এমন নিয়ত-ও রাখবেন।

রমাদানে ভালো কাজ কী করা যায়—এটা তার একটা উদাহরণ মাত্র। আরো অনেক কিছু করা যেতে পারে। রমাদান মাস দানের মাস। আমরা যেন আল্লাহর দেওয়া বৈধ রিযিক থেকে দান করতে পারি। আল্লাহর পথে দান তাঁর রাগ মিটিয়ে দেয়। কিছু পেতে হলে কিছু দিতে হয়। আপনি যে মেধা খাটিয়ে লক্ষ-লক্ষ টাকা কামাই করছেন সে মেধাটা আল্লাহর ওয়াস্তে, জান্নাতে যাওয়ার জন্যও খাটাবেন আশা রাখি। আর যদি কেউ আমাদের রমাদানের খাদ্য অভিযানে শরীক হতে চান তবে আমাদের জানাতে পারেন।
 
আমরা নিয়ত করেছি এবার ৫ হাজার মানুষের হাতে প্যাকেজ তুলে দেব। মোট ১৬টা জেলা জুড়ে কার্যক্রম চলবে আমাদের ইন শা আল্লাহ। যারা শারীরিকভাবে যেতে চান তারা আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।
 
যারা আর্থিকভাবে অংশগ্রহণ করতে চান, তাদের জন্য ব্যাংক একাউন্ট:
A/C name: Shorobor
Current A/C number: 3556 901 001127
Pubali Bank Limited, Islami Banking Window Principal Branch, Dhaka
বিকাশের একটা মার্চেন্ট একাউন্ট-ও আছে আমাদের: ০১৮৬ ১০০ ৫৫৫৫
এ নম্বরে যে কোনো পারসোনাল বিকাশ ওয়ালেট থেকে পেমেন্ট অপশনে গিয়ে টাকা পাঠানো যাবে। কোনো প্রশ্ন থাকলে কথা বলতে পারেন ০১৭৫০১৮০০৪৪ – এ নম্বরে। ইমেইল করতে পারেন shorobor.org@gmail.com অথবা shorobor.montron@gmail.com এ।
 
টাকা পাঠালে আমাদের দয়া করে জানাবেন যে কতটি ইফতার প্যাকেজের টাকা পাঠালেন। আমাদের একটা প্যাকেজের দাম পড়বে ৪৫০ টাকা, খাবারের প্যাকিং এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে যাওয়া-আসার খরচসহ। অর্থাৎ একদিন ইফতার করানোর খরচ পড়ছে মাত্র ১৫ টাকা। আমরা যেন এই রমাদানে কিছু ভালো কাজ করে জাহান্নাম থেকে নিজেদের মুক্ত করতে পারি। আল্লাহর কাছ থেকে জান্নাত চাইতে পারি—এমন কিছু কাজ করার তাওফিক যেন আল্লাহ আমাদের দেন। আমীন।
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedintumblrmailFacebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedintumblrmail

One thought on “এই রমাদানে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *